স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে আরও ৩ বছর সময় নেয়ার পক্ষে সরকার
বহু আলোচনা-সমালোচনার পর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে আরও অন্তত ৩ বছর সময় নেয়ার পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার। যার পক্ষে নানা যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে জাতিসংঘে প্রতিবেদনও পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যাতে বলা হয়, ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেয়া তথ্যে এই তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলো বাংলাদেশ। যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হবার সময় যখন ঘনিয়ে এসেছে, তখন আপত্তি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কাল্পনিক যে তথ্য দিয়ে আবেদন হয়েছে, এর সঙ্গে মিল নেই বাস্তবতার। বরং প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা আরও চ্যালেঞ্জিং।
এলডিসি উত্তরণের সময় বেশ খানিকটা পিছিয়ে দেয়ার আহ্বান তাদের। তারা জানান, শুল্কমুক্ত বাজারসহ বিশ্ব বাণিজ্যে যে সুবিধা মিলছে, সেটি চালু থাকা দরকার আরও অন্তত ৬ বছর।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিবিএস- এর সঙ্গে অনেক সময় বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফের মিলেনি। এ ছাড়াও যারা স্বার্ধীনভাবে এসব বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাদের সঙ্গেও পার্থক্য দেখা গেছে।
এমন বাস্তবতায় উত্তরণের সময় পেছাতে নমনীয় অন্তর্বর্তী সরকারও। ইতোমধ্যে জাতিসংঘে পাঠানো হয়েছে মসৃণ উত্তরণ কৌশল-এসটিএস প্রতিবেদন। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আগের আবেদনের তথ্যগত অসঙ্গতি। এর আলোকে বাস্তবতা জানতে আসবে জাতিসংঘের সিডিপি ও ইকোসকের প্রতিনিধি দল।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা আবেদন করতে পারি, তবে তা গৃহীত হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এই আবেদন করতে গিয়ে যে পরিমাণ কাজ করতে হবে, সেটা ঐ গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলার জন্য যে সংস্কারগুলো দরকার ঐ এনার্জিটা যদি আমরা সেখানে ব্যয় করি, সেটা দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান পেতে আরও সহায়ক হবে।
অর্থনীতির সূচক প্রকাশে গেলো দেড় দশক ধরে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে বলেও জানান বিশ্লেষকরা।