শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পাঠানো হয়েছে ১২ দপ্তরে

৯ অক্টোবর ২০২৫ - ০৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
 0
শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পাঠানো হয়েছে ১২ দপ্তরে

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব পরোয়ানা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সংশ্লিষ্ট ১২টি সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বুধবারই পরোয়ানাগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে সেদিনই ট্রাইব্যুনাল–১ টিএফআই সেল ও জেআইসি সেল সংক্রান্ত দুই গুমের মামলার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়।

দুটি মামলায় মোট পাঁচটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে টিএফআই সেলের গুম মামলায় ১৭ জন এবং জেআইসি সেলের মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন এখনো বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরিরত। তবে আইন অনুযায়ী অভিযোগ গৃহীত হওয়ার পর তারা আর কর্মরত হিসেবে বিবেচিত হবেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

বুধবারের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু মানুষকে তুলে নিয়ে গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। শুনানি শেষে তিনি দুই মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানান, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করে এবং পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এর আগে বুধবার সকালেই শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর।

প্রথম মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, সাবেক অতিরিক্ত ডিজি কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ খায়রুল ইসলাম, লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি অভিযুক্ত হয়েছেন—
সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী এবং লে. কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।