আন্দোলনে গুলিবিদ্ধদের ধরন দেখে বুঝতে পারি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়েছে: চিকিৎসক
সাধারণত বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তা পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়, কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বেশীর ভাগ রোগীদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। এসব রোগীদের মাথা দিয়ে গুলি বিদ্ধ হয়ে তা পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। আবার বুক দিয়ে গুলি ঢুকে তা সমান্তরাল ভাবে না বেরিয়ে পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে বুঝতে পারি যে আন্দোলনকারীদের উপর হেলিকপ্টার কিংবা উঁচু দালান থেকে গুলি করা হয়েছে বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আসাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ।
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৯ম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শেষ হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার ২৭তম সাক্ষ্যর জবানবন্দিতে মোস্তাক আহমেদ বলেন, গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা না দিতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ডাক্তাররা চাপ দিতেন। তারা বলতেন এরা সন্ত্রাসী, অতি উৎসাহী হয়ে তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া যাবে না।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, আন্দোলন কারীদের চিকিৎসায় বাধা দিতে স্বাচিপের নেতৃবৃন্দের কথায় গত বছরের ২৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৫ জন ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছিল।
এই চিকিৎসক বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে যখন আন্দোলনকারীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স যোগে আসছিলো, তখন শহীদুল্লাহ্ হলের সামনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রোগীদের পরিচয় যাচাই করতো। তারা আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ রোগীদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে বাধা দিতো বলে জানান এই ডাক্তার।
এর আগে এ মামলায় ২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় এখন পযন্ত মোট ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১০ই জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজ সাক্ষী হয়েছেন সাবেক আইজিপি মামুন। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গত ১রা জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইবুনাল।