আজও ঢাকামুখী মানুষের ঢল, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যা ঘিরে আজ বেড়েছে ঢাকামুখী মানুষের চাপ। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে লঞ্চ ও বাস টার্মিনালের পাশাপাশি রেলস্টেশনেও ছিল ভিড়। বরাবরের মতো এবারও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ছিল যাত্রীদের।
এ সময় তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা পরিবহনের বাসে পাটুরিয়া থেকে নবীনগরের ভাড়া ১২০ টাকা। তবে ঈদের ফিরতি যাত্রায় নেওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া থেকে গাবতলীর ভাড়া ১৮৫ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাড়তি ভাড়ার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেনেও দেখা গেছে ঢাকায় ফেরা মানুষের ঢল। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ট্রেনভর্তি যাত্রীরা ঢাকায় প্রবেশ করছেন। ট্রেনের নির্ধারিত আসনসংখ্যার বাইরে অনেকেই দাঁড়িয়ে ঢাকা এসেছেন। কেউ কেউ আবার ট্রেনের ছাদে করেও ঢাকায় প্রবেশ করেছেন।
সাঈদ নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছি। স্টেশনে এসে দেখি বেশ ভিড়, ট্রেনে উঠতেও কিছুটা ধাক্কাধাক্কি করতে হয়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, বসার জায়গাও পাইনি। তারপরও আগের মতো বিশৃঙ্খলা নেই, সবকিছু মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। কষ্ট হলেও মনে হচ্ছে নিরাপদেই ঢাকায় পৌঁছাতে পারছি—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
বাস টার্মিনালগুলোতেও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে ফেরার পথে মহাসড়কে যানজট না থাকায় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি এবং অল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টার্মিনালের বিপরীতে একের পর এক দূরপাল্লার গণপরিবহন এসে দাঁড়াচ্ছে। ঈদে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন হাজারো মানুষ। গাড়ি থেকে নামার পর যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য যানবাহন খুঁজতে ব্যস্ত। কেউ গণপরিবহনে উঠছেন, কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা বাইক রাইডারের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন।
ফলে যাত্রী খুঁজতে যেমন ব্যস্ত সময় পার করছেন গণপরিবহন শ্রমিকরা, তেমনি দূরপাল্লার বাস থেকে যাত্রী নামলেই গন্তব্য জেনে ছুটে যাচ্ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাইক ও অটোরিকশাচালকরা। দূরপাল্লার গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে জমছে ভিড়; দরকষাকষি শেষে যাত্রীরা ছুটে যাচ্ছেন গন্তব্যের উদ্দেশে।
সাত দিনের ঈদের ছুটির পর সরকারি অফিস-আদালত খুলেছে গত মঙ্গলবার। তবে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাজধানী ছিল ফাঁকা। রোববার থেকে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে—এ কারণে রাজধানীতে ঢুকছে হাজার হাজার মানুষ।