শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন না হওয়ায় অখুশি রাষ্ট্রপক্ষ
রাজধানীর পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে বিচারিক সিদ্ধান্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের বর্ষীয়ান নেতা শেখ হাসিনা–কে তিনটি মামলায় ৭ বছর করে, মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অথচ প্রত্যেক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা — যাবজ্জীবন — না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা নিজস্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ–৫ (বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন) রায়ে এই সাজা অনুমোদন করেন। পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় ১ লাখ টাকা করে, মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস করে ১৮ মাসের অতিরিক্ত সাজা নির্দেশ করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মইনুল হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, “আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে প্রতিটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। কিন্তু আদালত ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন — যা আমাদের সন্তুষ্ট করেছে না।” তিনি আরও বলেন, দোষ প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ সাজা না পেলে আমরা রায়ে আপত্তি জানাচ্ছি এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে হাইকোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ today রেখেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক ছিল — আসামিরা সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করার উপযুক্ত ঘটনা। তবে, মামলাগুলোর অন্যতম আসামি থাকা সত্ত্বেও পলাতক থাকার কারণে আসামিপক্ষের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এই তিন মামলার প্রথমটিতে অভিযুক্ত সংখ্যা ১২ জন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মামলা যথাক্রমে ১৭ ও ১৮ জন।
প্রসঙ্গত, এসব মামলায় অভিযোগ ছিল যে, আসামিরা — যার মধ্যে ছিলেন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্য — বরাদ্দ পেতে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং গরিব ভাতার স্বার্থ দেখিয়ে হলেও প্রকৃত প্রাপ্য না থাকা সত্ত্বেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ নেন।
আরেক অভিযোগে, পরিবারে অন্য সদস্যদের নামে আবাসন বা ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও, গোপন তথ্য দাখিল করে পূর্বাচল প্রকল্পে নতুন প্লটের আবেদন এবং রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পাশাপাশি, এক সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন–কে, দণ্ড থেকে বাঁচতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস নথি বিনষ্ট করার জন্য দায়ী করা হয়।
গত জানুয়ারিতে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলার প্রাথমিক অভিযোগ-দাখিল তখন হয়। ৩১ জুলাই সালের মধ্যে — প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচারপত্র গঠন হওয়ার পর — বর্তমান তিন মামলায় বিচার শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, দোষ প্রমাণিত হলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হওয়া, প্রত্যাশিত ন্যায়ের প্রতিফলন হয়নি — তাই তারা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।