ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা

২৭ আগস্ট ২০২৫ - ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
 0
ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা

স্ত্রীকে মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করাকে ইসলামে ‘জিহার’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ : কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে : ‘তুমি আমার জন্য হারাম যেমন আমার মা আমার জন্য হারাম’ কিংবা ‘আমার বোন আমার জন্য হারাম’ অথবা এ জাতীয় বাক্য বলা। 

জাহেলি যুগে এভাবে স্ত্রীকে তুলনা করা হতো। এই ‘জিহার’ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে এসেছে—‘তোমাদের মধ্যের যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার (মায়ের মতো হারাম বলে ঘোষণা করে) করে, তাদের স্ত্রীরা তাদের মাতা নয়। তাদের মা তো কেবল তারাই, যারা তাদের জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত : ২) 

ইসলামের চোখে ‘জিহার’ একটি অন্যায় আচরণ এবং হারাম কাজ। কেননা নিজের স্ত্রীকে এমন নারীদের সঙ্গে তুলনা করা যাদের বিবাহ করা তার জন্য হারাম, তা একটি গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ। কেউ এমনটি করলে তার জন্য কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। কাফফারা আদায়ের আগে স্বামী-স্ত্রী মিলন হারাম। 

যদিও লক্ষণীয় ও স্মরণীয় যে যদি (জাহেলি যুগের মতো) ‘হারাম’ জাতীয় শব্দ না বলে ভিন্ন উদ্দেশ্যে তুলনা করা হয়, যেমন—কেউ বলল, আমার স্ত্রী আকৃতি, গুণ বা সেবার দিক থেকে মায়ের মতো অথবা স্বাভাবিক কথা ও কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে যদি এই তুলনা করা হয়, তাহলে তা ‘জিহার’ বলে গণ্য হবে না, এবং কাফফারাও দিতে হবে না। (হেদায়া ২/২৬৫) 

জিহারের কাফফারা কী?

জিহারের কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার করে ফেলে, অতঃপর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো, একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা করো। যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ৬০জন মিসকিনকে আহার করাবে...।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত : ৩-৪)

অর্থাৎ জিহারের কাফফারা হলো :

১. একটি দাস মুক্ত করা। 

২. এটি সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা থাকা। ঈদ উপলক্ষে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলোতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর ঈদে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলো অতিবাহিত হলে যথারীতি রোজা রাখা শুরু করবে। 

৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন দরিদ্র-অসহায় মানুষ-কে এক বেলা খাবার খাওয়ানো অথবা খাদ্যদ্রব্য দান করা। (রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭৭)

স্ত্রীকে মা-বোন বলে সম্বোধন করা

স্বামী তার স্ত্রীকে মা-বোন বা এ ধরনের বাক্য দ্বারা সম্বোধন করা কিংবা স্ত্রী তার স্বামীকে বাবা বলে সম্বোধন করা মাকরুহ ও গোনাহ। তবে এর দ্বারা জিহার বা তালাক কার্যকর হবে না, তাই এতে স্ত্রী হারাম হবে না। এক-অন্যকে ছেলে-মেয়ে বা সন্তান হিসেবে সম্বোধন করার বিধানও অনুরূপ । (ফাতহুল কদির ৪/৯১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০৭) 

হাদিস শরিফে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘হে বোন’! বলে সম্বোধন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বললেন : সে কি তোমার বোন? অর্থাৎ তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং এভাবে বলতে নিষেধ করলেন। (সুনানে আবি দাউদ : হাদিস : ২২১০, ২২১১) 

স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম ঘোষণা করার বিধান

কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তার মাহরাম নারীর তুলনা না করে সাধারণভাবে হারাম ঘোষণা করে। যেমন—সে বলল, ‘তুমি আমার জন্য হারাম।’ অথবা স্ত্রীকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি যদি এ কাজ করো তাহলে তুমি আমার জন্য হারাম’, আর এতে যদি জিহারের নিয়ত করে, তাহলে জিহার বলে গণ্য হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। আর যদি উক্ত শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত করে, অথবা কোনো নিয়তই না করে, তাহলে এক তালাকে বায়েন কার্যকর হবে, তাই এমতাবস্থায় নতুন সূত্রে বিবাহ করা ছাড়া সংসার করা বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার ৩/২৫২)

news24bd.tv/কেএইচআর