নির্বাচনের মাঠে অপরাজেয় খালেদা জিয়া
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। সদ্যপ্রয়াত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মাঠে বরাবরই অপরাজেয় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো নির্বাচনে হারের মুখ দেখেননি। দেশের যে প্রান্তেই নির্বাচন করেছেন, বিজয় কেতন উড়িয়েছেন।
২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন। সেবার অবশ্য নির্বাচনে ভরাডুবি হয়। তবে খালেদা জিয়ার নির্বাচনি ফর্মে কোনো নড়চড় হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ এবং ২০২৪ এর জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আর মামলার কারণে ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। সেবারও তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আসনগুলো হচ্ছে- ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭।
খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি।
১৯৯৬ সালেও পাঁচ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়ের দেখা পান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৭ হাজার ৪১৭, ফেনী-১ আসনে ৬৫ হাজার ৮৬, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৯ হাজার ৫৪ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬৬ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
একইভাবে ২০০১ সালেও সমান পাঁচ আসনে বিজয় কেতন ওড়ান খালেদা জিয়া। সে নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৫, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২, খুলনা-২ আসনে ৯১ হাজার ৮১৯, ফেনী-৩ আসনে ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে জয় পান তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিন আসনে প্রার্থী হন খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনেও যথারীতি সব আসনে বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৩, বগুড়া-৭ আসনে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৮ ও ফেনী-১ আসনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।