শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে মামলার ২০তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলার ২০তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ।
সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল-১ এ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে শুনানি শুরু হয়। এদিন প্রথমেই ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, যিনি শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে লড়ছেন। এরপর নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন আরও তিনজনকে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।
এর আগে ৬ আগস্টের শুনানিতে দুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী—রিনা মুর্মু ও এ কে এম মঈনুল হক—সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং প্রত্যেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রায় ১,৪০০ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—১৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ আখ্যা দেওয়া, হেলিকপ্টার থেকে গুলির নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে আনাসসহ ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা। এসব অভিযোগে প্ররোচনা, উসকানি, অপরাধ দমন ব্যর্থতা ও ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে গত ১২ মে এবং পরে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও প্রমাণাদি ৪,০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।
গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। পরে ১৬ জুন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তারা হাজির না হওয়ায় গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
দেশ ছাড়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ মামলার বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে—একটি দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে এবং অপরটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের সমর্থিত প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে এসব অপরাধের বিচার চলছে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ইতোমধ্যে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়াও শুরুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করেছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে।